ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার (৭ জুন)।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এদিন বিকেল ৩টায় বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এই অধিবেশনেই আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এছাড়াও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত কার্যসূচি অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিনে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া সংসদ-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কার্যপ্রণালী বিধির আওতায় গঠিত জ্বালানি সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির একটি প্রতিবেদনও সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর এটিই বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বশেষ বাজেট উপস্থাপন করেছিল ২০০৬ সালে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন হিসেবে এ অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ২০ বছল পর বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার হবে ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির চাপ, রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। বাজেটে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, অর্থনীতির সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রফতানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এটি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক নীতির দিকনির্দেশনাও তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান বাজেটে প্রতিফলিত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের কার্যসূচি অনুযায়ী, বাজেট উপস্থাপনের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর এবং সংসদীয় কার্যক্রম চলবে। বাজেট পেশের পর এর ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে অর্থবিল ও বরাদ্দ বিল পাসের মাধ্যমে বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।