Tuesday 02 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রামিসা হত্যা মামলার আলামত আদালতে উপস্থাপন

স্টাফ করেসপন্ডেট
২ জুন ২০২৬ ১৬:২১ | আপডেট: ২ জুন ২০২৬ ১৯:১৬

– কোলাজ ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে আদালতে তদন্তকালে জব্দ করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব আলামতের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা কাটা গ্রিলসহ বেশ কয়েকটি বস্তু ছিল। এ সময় ঘটনাস্থলের ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে এসব আলামত উপস্থাপন করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, তদন্তের সময় জব্দ করা আলামতগুলো সাক্ষীদের মাধ্যমে শনাক্ত করিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষী হিসেবে এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল হোসেন আদালতে ঘটনাস্থলের অবস্থা, আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং তদন্তের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। রামিসার হত্যাকাণ্ডের নির্মম চিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কিছু সময়ের জন্য বক্তব্য দেওয়া বন্ধ রাখেন।

বিজ্ঞাপন

সকালে শুরু হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণে প্রত্যক্ষদর্শী, তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সাক্ষীরা আদালতে জবানবন্দি দেন। বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রথমদিকের সাক্ষীদের একজন হিসেবে আদালতে বক্তব্য দেন। এছাড়া রামিসার মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, প্রতিবেশী শেখ আবু সামা, মো. মনির হোসেন এবং মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম ওরফে রাজুসহ আরও কয়েকজন সাক্ষ্য দেন।

শিশু হওয়ায় রাইসা আক্তারের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা, সুরতহাল ও জব্দ তালিকার সাক্ষী এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ একদিনেই উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।

এর আগে সোমবার (১ জুন) একই ট্রাইব্যুনাল মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন থেকেই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।