Tuesday 02 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আন্দোলন অব্যাহত

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২ জুন ২০২৬ ১৩:২০ | আপডেট: ২ জুন ২০২৬ ১৪:৪৮

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।

এদিকে এ কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। প্রস্তুতে রয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যান।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কয়েক শত সচেতন গ্রাহক অংশগ্রহণ করেছেন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক এমডিকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধন থেকে আব্দুল হান্নান খন্দকার নামে একজন গ্রাহক বলেন, ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে গ্রাহকদের আমানত সংরক্ষণ করে আসছে এবং সুদমুক্তভাবে এই ব্যাংকটি বাংলাদেশে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকার এই ব্যাংকটিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এস আলম গ্রুপকে এর দায়িত্ব দেয়। তারা এই ব্যাংকের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে এসেছিল।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে যখন নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন ইসলামপ্রিয় এবং স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থায় বিশ্বাসী মানুষরা তাদের যা কিছু আছে তা নিয়ে পুনরায় ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগ শুরু করেন। ব্যাংকটি যখন আবার তার আগের অবস্থানে ফেরার চেষ্টা করছে এবং নিজের শক্তিতে ব্যাংকিং পরিচালনা করছে, ঠিক তখনই একটি কুচক্রী মহল ব্যাংকটিকে আবারও ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আবুল খায়ের আজাদ নামে আরেকজন গ্রাহক বলেন, গতকাল আমাদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে বিনা উসকানিতে পুলিশের চালানো হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ অত্যন্ত সুকৌশলে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছিল। বর্তমান চেয়ারম্যান (খুরশীদ আলম), যিনি জুলাই বিপ্লবের সময় পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ফ্যাসিস্টের দোসর। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই।

এই গ্রাহক বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর এবং ডেপুটি গভর্নরদের সহযোগিতায় এই অর্থ পাচার হয়েছে এবং তারা এই টাকার ভাগীদার ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে গতকাল এমডির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া ওমর ফারুক একজন গ্রাহক বান্ধব অফিসার। তাকে অবিলম্বে স্বপদে বহাল করার দাবি জানান তিনি।

ইসলামী ব্যাংক একটি শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক এবং এই ব্যাংকে তিন কোটি গ্রাহকের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ব্যাংকের মূল্যবোধ রক্ষা করার জন্য দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে ব্যাংকটিকে মুক্ত করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ও কর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

এর আগে গতকাল (সোমবার) সকালে একই স্থানে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।