ঢাকা: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সামর্থ্যবান মুসলমানরা ত্যাগের মহিমায় নামাজের পরপরই পশু কোরবানি শুরু করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৭টায় ঈদের নামাজ শেষ করে নগরবাসী অলি, গলিতে পশু কোরবানি করছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের নামাজ শেষ করেই পশু কোরবানি দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী।
মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জেন এবং বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্ররা পশু জবাইয়ে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিবেশীরা একে অপরের পশু জবাই দিতে সহযোগিতা করছেন।
অনেকেই পেশাদার কসাইয়ের অভাবে ঈদের দ্বিতীয় দিন কোরবানি করবেন বলে জানিয়েছেন। হজরত ইবরাহিমের (আ.) দেখানো পথে ত্যাগের মহিমা ও উৎসর্গের আনন্দ নিয়ে বৃহস্পিতবার এ ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।
‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’ তাকবির ধ্বনি দিতে দিতে ঈদ জামাতে হাজির হন মুসল্লিরা। নামাজের পর মোনাজাতে দেশ-জাতি তথা বিশ্ব মুসলিমের জন্য দোয়া করা হয়। পরে নিজ নিজ বাসায় গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পাপ মোচনের আশায় পশু কোরবানী করেন।
সর্বপ্রথম কোরবানি (হযরত আদম আ.)
মানব ইতিহাসের প্রথম কোরবানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল হযরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের মাধ্যমে। তাদের মধ্যে হাবিল তার সেরা ভেড়াটি এবং কাবিল তার উৎপাদিত ফসলের একাংশ আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন। আল্লাহ হাবিলের কোরবানি কবুল করেছিলেন, যার প্রতীক হিসেবে আকাশ থেকে আগুন এসে তা ভস্ম করে দিত।
হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগ
বর্তমান কোরবানির মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে হযরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তার পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর অবিচল আত্মত্যাগের ওপর। বৃদ্ধ বয়সে পাওয়া একমাত্র পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন তিনি। পিতা-পুত্রের এই অনন্য আত্মসমর্পণে সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ তাদের পরীক্ষা কবুল করেন এবং ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে বেহেশত থেকে আসা দুম্বা কোরবানি হিসেবে কবুল করেন।
ইসলামে কোরবানির প্রবর্তন
হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই সুমহান ত্যাগের স্মৃতি ও আদর্শকে স্মরণ করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে ইসলাম ধর্মে কোরবানি একটি অপরিহার্য ইবাদত হিসেবে রূপ নেয়। হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রাসুল (সা.) উম্মতে মুহাম্মদির জন্য কোরবানি ওয়াজিব বা আবশ্যক করেন।