ঢাকা: আসন্ন ঈদুল আজহায় রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। করপোরেশনের আওতাধীন ৭৫টি ওয়ার্ডের নাগরিকদের জন্য এবার ৩৫৭টি নির্দিষ্ট জায়গা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে কোরবানি সম্পন্ন করা যাবে।
বুধবার (২৭ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ ঢাকার ধানমন্ডি, লালবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় এসব স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে। যত্রতত্র পশু জবাই প্রতিরোধ এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
এলাকাভিত্তিক প্রধান প্রধান কোরবানির স্থানসমূহ
ধানমন্ডি ও সংলগ্ন এলাকা: ধানমন্ডি ৪ নম্বর রোডের মাঠ, ১৫ নম্বর স্টাফ কোয়ার্টার, ১৪ নম্বর রোড এবং শংকর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকাকে কোরবানি করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান ও পান্থপথের বাসিন্দাদের জন্যও একাধিক নির্দিষ্ট পয়েন্ট রাখা হয়েছে।
খিলগাঁও, গোড়ান ও বনশ্রী: খিলগাঁও পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ি, জাগরণী সংসদ মাঠ ও বিদ্যুৎ অফিসের পাশের সড়কটি ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে গোড়ান, বনশ্রী ও মেরাদিয়া এলাকার বিভিন্ন খালি জায়গা ও মাঠকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাসাবো, মাদারটেক ও শান্তিনগর: শহীদ আরাউদ্দিন পার্ক, মাদারটেক আব্দুর আজিজ স্কুল মাঠ এবং কমলাপুর স্টেডিয়ামের দক্ষিণ প্রান্তকে জবাইয়ের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া আরামবাগের বাফুফে ভবনের পেছনের রাস্তা, এজিবি কলোনি ও শান্তিনগরের ইস্টার্ন পিস রোড এলাকাতেও ব্যবস্থা থাকছে।
পুরান ঢাকা ও লালবাগ: ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার জনঘনত্ব বিবেচনা করে হাজারীবাগ, নবাবগঞ্জ, লালবাগ কেল্লার চারপাশ, ইসলামবাগ, বেগমবাজার, বংশাল ও সিদ্দিকবাজার এলাকায় বড় পরিসরে আলাদা আলাদা স্থান নির্ধারণ করেছে ডিএসসিসি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, নাগরিকরা যদি এই নির্ধারিত স্থানগুলো ব্যবহার করেন, তবে ঈদের দিন দ্রুততম সময়ের মধ্যে পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। এতে করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধ করা যাবে।
সেসঙ্গে পবিত্র ঈদের আনন্দকে বিষাদমুক্ত রাখতে এবং শহরের পরিবেশ সুন্দর রাখতে পশুর রক্ত ও উচ্ছিষ্ট অংশ যত্রতত্র বা খোলা ড্রেনে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।