Wednesday 13 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হামে সংক্রমণ ও মৃত্যু একই গতিতে চলছে: স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ মে ২০২৬ ১৮:৩৭ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১৯:০৬

ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, দেশে হামে সংক্রমণ ও মৃত্যু একই গতিতে চলছে। তবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রুগ্ন অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) দুপুর সোয়া ২টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় যুগ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা ছিল। তারা বসে বসে ডাটাবেজ সব ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশ্বের ৫৪টি দেশে হাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী হাম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশে। এছাড়া ২০২০ সালের পর হামবিরোধী ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং আগের সরকারের গাফিলতির কারণে বর্তমানে হামের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা টিকা না কিনে সংকট তৈরি করেছিল। সময় মত ক্যাম্পেইন করলে আজ এত শিশু মারা যেত না। আগের সরকার টিকাদান কভারেজের তথ্য বিকৃত করায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপ্রতুল বরাদ্দের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এরই মধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এক নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামোয় রূপ দিতে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে থাকবে ব্লাড সুগার ও রক্তচাপ পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, গর্ভবতী নারীদের কাউন্সেলিং, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের শারীরিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ এবং টিকাদান কার্যক্রম। প্রতিটি নাগরিককে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তাকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে পাঠানো হবে। সেখানে চিকিৎসা সম্ভব না হলে উপজেলা কিংবা টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতালে রেফার করা হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী হাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই প্রভাব দেশে পড়েছে। আমরা টিকা দিচ্ছি, ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু আমাদের লক্ষ্য মাত্রা। এরই মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশুকে আমরা টিকার আওতায় নিয়ে এসেছি। এই মুহূর্তে কোনো ভ্যাকসিন সংকট নাই। দেশের সব সরকারি হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তাই খুব শিগগিরই দেশে হামের সংক্রমণ কমে আসবে। অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি, এমনকি যারা নিয়মিত ইপিআই-এর আওতায় দুই ডোজ হাম রুবেলা টিকা পেয়েছে, তারাও যেন এই ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম রুবেলা টিকা গ্রহণ করে। আমরা দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অবশ্যই হাম নিয়ন্ত্রণে সফল হবো এবং আমাদের শিশুদের নিরাপদ রাখতে পারবো।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর