Friday 22 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মোবাইল অ্যাপেই মিলবে ব্যাংক ঋণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ মে ২০২৬ ১৭:৫০

– কোলাজ প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে বাণিজ্যিকভাবে ‘ই-ঋণ’ (e-loan) চালুর জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করতে পারবে তফসিলি ব্যাংকগুলো।

সোমবার (১১ মে) ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলারে এ তথ্য জানা‌নে হয়। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ গ্রহণের চাহিদা বাড়ায় ‘ই-ঋণ’ সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই উদ্যোগ ক্যাশলেস সমাজ গঠনের প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করবে।

বিজ্ঞাপন

সার্কুলারে বলা হয়েছে, একজন গ্রাহক এক সময়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ নিতে পারবেন। এ ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণ করবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় দেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ।

নতুন নীতিমালায় ই-ঋণের পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহক অনবোর্ডিং থেকে ঋণ বিতরণ ও আদায় পর্যন্ত সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। ঋণ আবেদন, অনুমোদনপত্র ও চার্জ ডকুমেন্টে প্রচলিত স্বাক্ষরের বদলে বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমে গ্রাহকের সম্মতি নিতে হবে।

তবে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে সংরক্ষণ করা যাবে না বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ই-ঋণ বাণিজ্যিকভাবে চালুর আগে কমপক্ষে ছয় মাস পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করতে হবে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রোডাক্ট প্রোগ্রাম গাইডলাইন (পিপিজি) চূড়ান্ত করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।

গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার এবং ওটিপিসহ টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণের কথাও বলা হয়েছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নতুন ই-ঋণ দেওয়া যাবে না। ঋণ বিতরণের পর দ্রুত সিআইবি প্রতিবেদন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। তবে স্বয়ংক্রিয় সিআইবি ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত তাৎক্ষণিক সিআইবি অনুসন্ধানের বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ই-ঋণের তথ্য মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে এবং মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর