ঢাকা: দেশের শ্রমবাজারে শোষণমূলক ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলে শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতারা।
শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এ কথা বলেন।
নেতারা বলেন, খাদ্য, পোশাক, ওষুধ, যানবাহনসহ মানুষের ব্যবহার্য প্রায় সব পণ্যই শ্রমিকদের শ্রমে উৎপাদিত হলেও এর বিপরীতে তারা ন্যায্য মজুরি পান না। তারা উল্লেখ করেন, দার্শনিক কার্ল মার্ক্স তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছিলেন- শ্রমঘণ্টা বাড়ানো ও মজুরি কম রাখার মাধ্যমে মালিকরা অধিক মুনাফা অর্জন করে।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের এমন মজুরি প্রয়োজন যা দিয়ে তারা সম্মানজনক জীবনযাপন, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসাভাড়া এবং বার্ধক্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে মাস শেষে প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই অধিকাংশ শ্রমিককে ঋণের চক্রে পড়তে হয়, যা থেকে তারা কখনোই বের হতে পারেন না।
তারা বলেন, আট ঘণ্টা কর্মদিবস ও ন্যায্য মজুরির দাবি ঐতিহাসিকভাবে শোষণবিরোধী সংগ্রামের অংশ। শোষণমূলক কাঠামো বহাল থাকলে ন্যায্য মজুরি অর্জন সম্ভব নয়—এ জন্য প্রয়োজন একটি শোষণহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
নেতারা সরকারের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮৪২ ডলারের হিসাব তুলে ধরে বলেন, সে অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক আয় এক লাখ ৪৪ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে কোনো শ্রমিক পরিবারই এ ধরনের আয় করে না। তারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকরা কম মজুরি, অপ্রতুল ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে একদিকে যেমন বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা শ্রমশক্তি রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে ধনী মালিক শ্রেণি এবং তীব্র আয় বৈষম্য। গার্মেন্টস, নিটওয়্যার, সুয়েটার, ফার্মাসিউটিক্যালস, রি-রোলিং, পাট-চা, তাঁত, পরিবহন, মোটর মেকানিক, রিকশা, দোকান ও হোটেল—সব খাতের শ্রমিকই মানসম্মত মজুরি থেকে বঞ্চিত।
মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা আব্দুল আলীম, সুবাস বিশ্বাস, রেহমান রাহাত ও মশিউর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।