ঢাকা: সরকার দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সরকার সারা দেশে মোট ২০টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি নতুন স্টেশন স্থাপন করা হবে এবং বাকি ৮টি ফায়ার স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার পূবাইল ফায়ার স্টেশনের জন্য দক্ষিণখান মৌজার বিভিন্ন দাগে মোট ১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের এই স্টেশনগুলো স্থাপিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে জরুরি সেবা প্রদান ও অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলায় সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশাপাশি সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং মহাসড়কের উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণের যে মহাপ্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়নের জন্য মোট ১২ দশমিক ১৪৭১ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই মহাসড়কটি চার লেনে রূপান্তরিত হলে সিলেট বিভাগের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এছাড়া ঢাকার যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের কাজকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলার উত্তরা ও সাভার উপজেলার মোট ১৪টি মৌজায় ১৩.৪৪৪৮ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার উত্তর অংশের প্রবেশপথে যানবাহনের চাপ অনেক কমে আসবে এবং যাতায়াত পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের জনস্বার্থে ও উন্নয়নমূলক কাজের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নিয়ম মেনে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা সম্ভব হয়। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের অবকাঠামোগত খাতের দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।