ঢাকা: রাজধানীর কাফরুলে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় পরিকল্পনাকারীসহ ৪ জন গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, র্যাব-৪ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। ২০ এপ্রিল গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর কাফরুলে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো রানা (৩১), মো. সাগর শেখ (২৮), মো. কালু (২৮) ও শশী (২২)।
কোম্পানি কমান্ডার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মামলার বাদী এ কে এম এ্যাপারেলস গার্মেন্টস কারখানার মালিক। গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি গার্মেন্টসের অফিস রুমে বসে কাজ করছিলেন। এ সময়ে অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৩ জন দুস্কৃতিকারী তার অফিস রুমে প্রবেশ করে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। বাদী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২ জন অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারী পিস্তুল বের করে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এ সময় দুস্কৃতিকারীরা বাদীর অফিস কক্ষের লকার ভাংচুর করে এবং ৩ দিনের মধ্যে এক কোটি টাকা চাঁদা না দিলে বাদীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এমনকি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় দুস্কৃতিকারীরা সিসি ক্যামেরার ডিভিআর ও হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। র্যাব-৪ সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ৪ জন আসামিকে সনাক্ত করে এবং মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী রানা।
তিনি আরও বলেন, এ কে এম এ্যাপারেলস গার্মেন্টসটি একটি রিমোট এলাকায় ও যাতায়াতের রাস্থা একটু অনুন্নত হওয়ায় রানা এই গার্মেন্টসটি বেছে নেয়। ঘটনার পূর্বেই রানা উক্ত গার্মেন্টসে যায় এবং আশপাশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারনা নেয়। আসামী রানা জানত যে এখানে ভয়ভীতি দেখালে মোটা অংকের টাকা আদায় করা যাবে। পরে আসামি রানাসহ অন্যান্য আসামিরা অস্ত্রসহ গার্মেন্টসের মালিকের রুমে ঢুকে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে।
তিনি বলেন, গ্রেফতার আসামিরা রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল থানাসহ আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।