ঢাকা: দেড় মাস বিরতির পর আবারও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ৭ কোটি ডলার কেনার পর বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আরও ৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা ডলার বাজারে নতুন করে গতি তৈরি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এই ডলার সংগ্রহ করা হয়। এর আগে সর্বশেষ ২ মার্চ ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে আড়াই কোটি ডলার কেনা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই ডলার কেনাকাটার ফলে ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড-এর বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ৫৬১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনেছে, যার বিপরীতে বাজারে বিপুল পরিমাণ টাকা ছাড় হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়তে সহায়তা করছে।
রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের কারণে ডলার বাজারে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—ইসরায়েল-ইরান ইস্যু ডলার বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
মার্চের শুরুতে ডলারের দর বেড়ে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় পৌঁছালেও এর আগে দীর্ঘদিন তা ১২২ টাকা ২৫-৩০ পয়সার মধ্যে ছিল।
ডলার বাজারে চাপ থাকলেও প্রবাসী আয় পরিস্থিতিকে কিছুটা স্বস্তিতে রেখেছে। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ১৬১ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৮২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
অন্যদিকে আমদানি বাড়লেও রপ্তানি কমে যাওয়ায় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া করোনা পরবর্তী সময় ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এর প্রভাবে ডলারের দর দীর্ঘমেয়াদে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
একসময় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানো রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও বর্তমানে তা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।