ঢাকা: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে হাম বজ্রপাতের মত এসেছে। এ জন্য কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ের মধ্যে হাম মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছি আমরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকা শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের প্রকোপ বাড়ার জন্য দায়ী বিগত সরকার। আমরা এরই মধ্যে টিকা ক্রয় করার জন্য অর্ডার করেছি। ওটা পেতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। তবে গ্যাভির স্টোকে কিছু টিকা আছে, তাদের কাছ থেকে ধার নিয়ে আমরা আগামী রোববার থেকে টিকা কার্যক্রমের কাজ শুরু করতে পারব। আর হাম মোকাবিলায় চিকিৎসকরা জান প্রাণ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলি, গত দুই আড়াই সপ্তাহে আমাদের ডেথ ক্যাজুয়ালিটিজ অনেক কমে এসেছে এবং খুব দ্রুত আক্রান্ত আমাদের সন্তানেরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি এই শিশুদের জন্য ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করেছি। শিশু হাসপাতালে আজকে আমরা উন্নতমানের দুইটা ভেন্টিলেটর দিয়েছি।
স্কুলে সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস কিংবা হোম ক্লাস এরকম কোন আলোচনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আপনদের হয়েছে কিনা- প্রশ্নে তিনি বলেন, একেবারেই না। এ ধরনের কিছু আমাদের মধ্যে হয়নি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টিকার অভাবে যেহেতু ৬ মাস বয়সের থেকে ১৫ বছরের শিশুদের কাভার করা যায়নি, এ জন্য হামের বেড়েছে। আক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সীমিত সম্পদের ভিতরে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এটাকে মোকাবেলা করার জন্য। আমার সব জায়গায় আইসিইউ ও নতুন ওয়ার্ড খুলেছি। মানিকগঞ্জে আট বেডের একটা আইসিইউ খোলা হয়েছে।
বাবল সিপ্যাপের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের সন্তান আইসিডিআরবির ডাক্তার তাহমিদ নিজস্ব একটা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। যেটা অবাদে পানির মত বুদবুদ সৃষ্টি করার মাধ্যমে লাংচের ভিতরে ক্লিয়ার করার জন্য অক্সিজেন ঢুকানোর একটা নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। যেটা সারা দেশব্যাপী এটা দিয়ে আমরা বাচ্চাদের শ্বাস-প্রশ্বাসটা স্বাভাবিক রাখতে সার্থক হব ইনশাআল্লাহ।