যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে ইরান, এমন আভাস পাওয়া গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর পর থেকেই। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র; দুই পক্ষ থেকেই এসেছে বয়কটের পরামর্শ। তবে বয়কটের এই হুমকির মধ্যেও পুরোদমে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত, এতে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এত লাশের ওপর ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন না তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন, ইরান যেন নিরাপত্তার কথা ভেবে বিশ্বকাপ বয়কট করে।
গ্রুপ পর্বে ইরানের সব ম্যাচই হবে যুক্তরাষ্ট্রে। মেক্সিকোতে ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সেটা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্বকাপ বয়কটই তাই একমাত্র সমাধান বলেই মনে হচ্ছে।
ইরানের ফুটবল প্রধান মেহদি তাজ আরও একবার জোর দিয়ে জানিয়ে দিলেন, তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে না। তবে বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা, ‘জাতীয় দল তুরস্কে একটি ক্যাম্প করছে এবং আমরা এখানে দুইটি প্রীতি ম্যাচও খেলব। আমরা আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপ বয়কট করব না।’
চার-জাতি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে আগামী ২৭ মার্চ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং চার দিন পর কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলবে ইরান। এই টুর্নামেন্টটি হওয়ার কথা ছিল জর্ডানে; তবে মধ্যপ্রাচে যুদ্ধের কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তুরস্কে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে হবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। প্রথম দুটি ম্যাচ হবে লস অ্যাঞ্জেলসে এবং পরেরটি হবে সিয়াটলে।