ঢাকা: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, ক্ষুধামুক্তি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণসহ এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো দ্রুত অর্জন করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানী টিএনটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি স্থানে পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয়েছে এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সর্বজনীনতা ও নিরপেক্ষতা, যেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মীয় ভেদাভেদ বিবেচনা করা হবে না; বরং একজন নাগরিক হিসেবে পরিচয়ই এখানে প্রধান।
তিনি আরও বলেন, সরকার ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ধারণা বাস্তবায়নে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে চালু থাকা প্রায় ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে পর্যায়ক্রমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, যাতে অনিয়ম বা দ্বৈত সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না থাকে।
অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কার্ড বিতরণের অভিযোগ ছিল, তবে নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগ থাকবে না। প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড অত্যাধুনিক কিউআর কোড সম্বলিত এবং কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই একটি কার্ডের মাধ্যমেই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি স্বচ্ছল নাগরিক চাইলে তাদের প্রাপ্য অর্থ রাষ্ট্রকে দান করতে পারবেন, যা দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন, রাজনৈতিক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি এই কর্মসূচিকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের দর্শনের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।