Saturday 07 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জ্বালানি সংকট: অকটেন শূন্য রংপুরে পেট্রোল মিলছে শুধুমাত্র ২০০ টাকার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ মার্চ ২০২৬ ১০:৪২

ছবি: সারাবাংলা

রংপুর: বিভাগীয় নগরী রংপুরে শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে অর্ধশতাধিক পেট্রোল পাম্পে অকটেনের সরবরাহ একেবারে শূন্য হয়ে পড়েছে। পেট্রোল থাকলেও প্রতি গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি বিক্রি করা হচ্ছে না। ফলে মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকরা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, সৃষ্টি হয়েছে চরম আতঙ্ক।

সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রংপুরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, শাপলা চত্বরের বৃহৎ শাপলা পাম্পসহ আজিজ পেট্রোল পাম্প, সালেক পেট্রোল পাম্প এবং আরও অনেক স্থানে অকটেন নেই বলে নোটিশ টানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অকটেন শেষ। পেট্রোলের সামান্য মজুত দিয়ে শুক্র-শনিবার চাহিদা মেটানো অসম্ভব বলে পাম্প মালিকরা প্রতি গ্রাহককে ২০০ টাকার সীমা বেঁধে দিয়েছেন। শাপলা পাম্পের কর্মচারী জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘দুই দিন সরকারি ছুটি, রোববারের (৮ মার্চ) আগে ডিপো থেকে তেল আসবে না। তাই এই নিয়ম।’

বিজ্ঞাপন

গ্রাহকদের অভিযোগ, ২০০ টাকার পেট্রোলে দুই দিনও মোটরসাইকেল চলবে না। মুন্সিপাড়ার সালাম ও সিও বাজারের নজরুল ইসলাম জানান, ১২টি পাম্প ঘুরেও অকটেন পাননি। তারা বলেন, ইরান যুদ্ধের দোহাই দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শুক্রবার সন্ধ্যায় জরুরি নির্দেশনা জারি করে ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে বলা হয়েছে- মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল/অকটেন (প্রতি ট্রিপ/দৈনিক), প্রাইভেট কার সর্বোচ্চ ১০ লিটার জিপ/এসইউভি/মাইক্রোবাস ২০-২৫ লিটার, পিকআপ/লোকাল বাস ৭০-৮০ লিটার ডিজেল, দূরপাল্লার বাস/ট্রাক/কাভার্ডভ্যান/কনটেইনার ২০০-২২০ লিটার ডিজেল। তেল কেনার সময় অবশ্যই রশিদ নিতে হবে এবং বরাদ্দের বেশি দেওয়া যাবে না।

নগরির সালেক পাম্পের ম্যানেজার দুলু রহমান বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের খবরে গ্রাহকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। চাহিদার তুলনায় কম মজুত থাকায় রেশনিং করতে হচ্ছে। তবে জ্বালানি তেলে কোনো সংকট হবে না।’

প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বড় ড্রাম নিয়ে পাম্পে ভিড় করছেন। শ্যামপুরের আব্দুল মতিন জানান, গ্রামে পেট্রোল এখন ২০০-২৫০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। পাম্পগুলো না বিক্রি করলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় দেশজুড়ে প্যানিক বায়িং শুরু হয়েছে। ঢাকা, সাভার, রাজশাহী, সিলেট, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায়ও পাম্পে ভিড় ও রেশনিং দেখা যাচ্ছে। তবে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে—যা ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন ও পেট্রোল ১৫ দিন চলবে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭টি জাহাজের আমদানির এলসি সম্পন্ন হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘জ্বালানি সংকটের কোনো শঙ্কা নেই, দাম বাড়ানোর চেষ্টা করবে না সরকার।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর