Wednesday 04 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ছেঁউড়িয়ার সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠান পূর্ণ সেবায় সমাপ্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ মার্চ ২০২৬ ১০:০৯

কুষ্টিয়া: আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন সাঁই-এর স্মরণে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় অনুষ্ঠিত দোল উপলক্ষ্যের সাধুসঙ্গ পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এবার আয়োজন ছিল সংক্ষিপ্ত ও সাদামাটা। তবুও ভক্ত-অনুসারীদের অংশগ্রহণে আধ্যাত্মিক আবহে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠান।

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে রাখাল সেবা ও রাতে অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাধুসঙ্গ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয় লালন দোল উৎসব।

প্রতি বছর দোলপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে লালন আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে বসে মিলনমেলা। জীবদ্দশায় লালন সাঁই দোলের রাতে ভক্ত-শিষ্যদের নিয়ে সাধুসঙ্গে মিলিত হতেন। তার দেহত্যাগের পর সেই রেওয়াজ অনুসরণ করে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় দোল উৎসব।

বিজ্ঞাপন

তবে এবার রমজান মাস চলমান থাকায় অনুষ্ঠানসূচি সংক্ষিপ্ত করে লালন অ্যাকাডেমি। আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে ছিল না গ্রামীণ মেলা, ছিল না বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন। কেবল ভক্ত-অনুসারীরা তাদের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী সাধুসঙ্গের মধ্য দিয়েই পালন করেন উৎসব।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত সাধুভক্তরা খণ্ড খণ্ড আসন গেড়ে বসে প্রচার করেন লালনের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন। রাতভর চলে আধ্যাত্মিক আলোচনা। শেষপর্যন্ত পূর্ণ সেবা ও প্রার্থনার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় সাধুসঙ্গের।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, সোমবার থেকে লালন উৎসব ২০২৬ আরম্ভ হয়েছিল। সন্ধ্যায় রাখাল সেবা রাতে অধিবাস এবং ভোরে বাল্য সেবা দিয়েছি এবং সর্বশেষ পূর্ণ সেবা দেয়া হয়েছে এর মাধ্যমে লালন লালন উৎসব শেষ হয়েছে।

সাধুসঙ্গে অংশ নেওয়া কয়েকজন ভক্ত বলেন, জাঁকজমক না থাকলেও লালনের দর্শন ও সাধুসঙ্গই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাদের মতে, বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে অন্তরের ভক্তিই এই উৎসবের মূল শক্তি।

সাদামাটা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আবারও ধ্বনিত হয়েছে লালনের সেই চিরন্তন বাণী মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর