ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সমন্বিত কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করছে- এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করলেও পরিদর্শকরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো কর্মসূচির প্রমাণ খুঁজে পাননি। সংস্থার তদন্তে এমন কোনো তথ্য মেলেনি যা প্রমাণ করে তেহরান সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে এগোচ্ছে।
তবে গ্রোসি নিশ্চিত করেছেন, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। এই মাত্রা বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার তুলনায় অনেক বেশি এবং অস্ত্রমানের ইউরেনিয়ামের কাছাকাছি। তার ভাষায়, এ ধরনের সমৃদ্ধকরণ সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোই করে থাকে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, শুধু উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করলেই পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি হয়েছে এমনটি বলা যায় না।
গ্রোসি বলেন, ইরানের সেন্ট্রিফিউজগুলো অবিরামভাবে ঘুরছিল এবং বিপুল পরিমাণ উপাদান উৎপাদন করছিল। তাত্ত্বিকভাবে সেই পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব হলেও বর্তমানে ইরানের কাছে এমন অস্ত্র রয়েছে এর কোনো প্রমাণ নেই।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ফক্স দাবি করেছেন, চলতি বছরের শুরুতে ইরানি আলোচকরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন যে তাদের নিয়ন্ত্রণে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৬০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
তার মতে, ইরানের মজুত ইউরেনিয়াম এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অস্ত্রমানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হতে পারে, যদিও এর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু স্থাপনা গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে।
উইটকফ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিস্তৃত চুক্তি চান, যার আওতায় ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভেঙে ফেলা, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং নৌ সক্ষমতা কমাতে বাধ্য করা হবে।
এদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রিক। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তেহরান কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।