রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটকের দেয়ালে ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখার ৪৮ ঘণ্টার মাথায় তা নিজেরাই মুছে দিয়েছে শাখা ছাত্রদল। ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তারা জানিয়েছে, অতিউৎসাহী কিছু শিক্ষার্থীর মাধ্যমে এটি ঘটেছিল। ফটকের সৌন্দর্য রক্ষায় তারা এটি মুছে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি)।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১১টায় ক্যাম্পাস ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ও ফারহান ফারুকী, প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানাসহ নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকের দেয়াল থেকে লেখাটি মুছে দেন। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৮টায় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির জিম ও কর্মী মামুনের নেতৃত্বে দুটি দেয়ালে ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ এবং এক জায়গায় ‘শিবির, রাজাকার মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা হয়।
এ ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (৩ আগস্ট)। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করে ছাত্রশিবির। সেখানে জামায়াত নেতা গোলাম আজম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদদের ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ শিকার হিসেবে উল্লেখ করে ছবি টাঙানো হয়। সেই ব্যানারে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরীর ছবি থাকায় ছাত্রদল নেতারা এই ব্যানার সরাতে গেলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে।
ওই দিন সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় জেলা ও মহানগর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। প্রায় ৪ ঘণ্টা ফটক অবরুদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ-বের হতে পারেননি। এ সময় তারা জামায়াত নেতাদের ছবি সংবলিত ব্যানারে জুতা নিক্ষেপ করে উল্লাস প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর পরই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লেখা মুছে ফেলার প্রতিশ্রুতি দেয়। বৃহস্পতিবার সেই প্রতিশ্রুতি পালন করে সংগঠনটি।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘মঙ্গলবারই আমরা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিলাম অতিউৎসাহী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এটি ঘটেছে। আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা মুছে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা তা করলাম। এতে ছাত্রদলের ইতিবাচক রাজনীতির প্রমাণ মিলবে। আশা করি শিবিরের ভাইয়েরা ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড ঘটাবে না যা ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে।’
এদিকে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি রাকিব মুরাদ জানান, ‘মূল ঘটনাটি অতিউৎসাহী ছাত্রদল নেতাদের কারণে হয়েছিল। তবে ক্যাম্পাস ছাত্রদল তাড়াতাড়ি বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুল স্বীকার করেছে। প্রধান ফটকের লেখা মুছে ফেলা এবং সাঈদীসহ নেতাদের ছবিতে জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করায় তাদের সাধুবাদ জানাই।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন মনে করেন, ‘ছাত্রদল প্রমাণ করেছে তারা পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোয় রাজনীতি করতে চায় না। আমরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ‘ছাত্রদলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতায় এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ফ্যাসিবাদের কবর রচনায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবির যেভাবে ভূমিকা রেখেছে, শহিদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও তারা কাজ করবেন বলে বিশ্বাস করি।’