ঢাকা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে মাসব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই শহিদদের কবর জিয়ারত করেছেন জামায়াত নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির শিক্ষাবিদ আব্দুস সবুর ফকিরের নেতৃত্বে রায়ের বাজার বধ্যভূমি কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুর নবী মানিক, ড. মোবারক হোসাইন, আবদুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন।
এছাড়াও মহানগরীর সকল সাংগঠনিক থানা ও বিভাগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দসহ জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ‘যাদের রক্তের ওপর দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছে তাদের স্মরণে সরকারের কোনো কর্মসূচি নেই! এটি শুধু দুঃখজনক নয়, বরং পরিতাপের বিষয়, উদ্বেগের বিষয়। জুলাই-গণ-অভ্যুত্থানের মাত্র দ্বিতীয় বর্ষে এসেই রাষ্ট্র জুলাই আন্দোলনের স্বীকৃতি দিচ্ছে না, জুলাইকে স্মরণ করছে না! এটি কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। সরকার যদি জুলাই চেতনাকে স্বীকার করতো তবে জুলাই-আগস্টের সেই ৩৬ দিনের স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করতো।‘
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, রেডিও এমনকি সংবাদ সংস্থায় জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে কোনো ডকুমেন্টারি কিংবা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যার চিত্র প্রকাশ করা হচ্ছে না। অথচ চব্বিশের ৩৬ জুলাইয়ের সকল তথ্যই রাষ্ট্রের কাছে রয়েছে। জুলাই নিয়ে সরকারের কোনো কর্মসূচি না থাকায় জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে সরকার ৩৬ জুলাইয়ের সকল তথ্য মুছে দিয়ে পতিত পরাশক্তি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক স্পেস তৈরি করে দেওয়ার পথে হাঁটছে।’
আব্দুস সবুর ফকির আরও বলেন, ‘যারা জীবন দিয়ে গেলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের কোনো সম্মান করা হচ্ছে না। হবেই বা কেন যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকারোক্তি দিয়েছেন একটি প্রতারণার মাধ্যমে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে।’
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আজকে আমরা শহিদদের গণকবরের পাশে এসেছি। এই গণকবরে শুয়ে থাকা অনেক শহিদের পরিবার জানে না তাদের সন্তান কিংবা পিতা-মাতার এবং ভাই-বোনের কবর কোথায়! একটি পরিবারের জন্য একজন মানুষের জন্য এটি কতটা হৃদয় বিদারক তা বলে বোঝানো যায় না।’
তিনি বলেন, ‘যারা রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করেছে, মানুষের লাশ আর রক্ত দেখে উল্লাস করেছে; তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’