Thursday 04 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে খুলনায় বিক্ষোভ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ জুন ২০২৬ ১৯:৩০

খুলনায় জামায়াতের বিক্ষোভ

খুলনা: দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে খুলনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর শিববাড়ি মোড় থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে মিছিল পরবর্তী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এ সময় তারা ‘তেলের দাম কমিয়ে দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’, ‘বিদ্যুতের দাম কমিয়ে দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’-সহ জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে নানা দাবি সংবলিত স্লোগান দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না। সরকারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি দেশের বিদ্যুৎ খাতের সকল দুর্নীতি, অপচয় ও লুটপাট বন্ধ করে জনসার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের আপামর জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে গণবিরোধী ও অযৌক্তিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’

মহানগরী আমির আরও বলেন, ‘সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক চরম ও নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তার ওপর আবার বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিইআরসি’র আদেশ অনুযায়ী পাইকারিতে গড় দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। একই সাথে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার সাথে সাথে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যাবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে। চাল, ডাল, তেলসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে।’ এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খুলনা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আব্দুল গফুর, কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা শাহারুল ইসলাম, মাওলানা শেখ মো. অলিউল্লাহ, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, খুলনা সদর থানা আমির এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমির জি এম শহীদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমির মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমির মাওলানা মোশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমির মাওলানা মনোয়ার আনসারী, লবণচরা থানা আমির মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন, হরিণটানা থানা আমির জি এম সেলিম বাহার, খুলনা সদর থানা সেক্রেটারি মো. আব্দুল সালাম, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, খালিশপুর থানা সেক্রেটারি মো. আব্দুল আউয়াল, দৌলতপুর থানা সেক্রেটারি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন, আড়ংঘাটা থানা সেক্রেটারি ফিরোজ আহমেদ তুহিন প্রমুখ।