বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়েছে দেশজুড়ে। চার দশকেরও বেশি সময় আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হওয়া জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার (৩০ মে) দেশের বিভিন্ন জেলায় আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, শোক র্যালি, বৃক্ষরোপণ ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। কর্মসূচিগুলোতে দলটির নেতারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রে তার অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন।
দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচির খবর তুলে এনেছেন সারাবাংলার প্রতিনিধিরা।
নোয়াখালী
নোয়াখালীর সেনবাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, বিশ্ব রাজনীতিতেও একজন আদর্শবান নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।’
এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করেছিলেন এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সেনবাগ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে অতীতের নেতৃত্ব থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।’
নরসিংদী
নরসিংদী সদর উপজেলার দগরিয়া ইসলামিয়া মদীনাতুল উলূম মাদ্রাসায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল গঠন করে বাঙালি জাতিকে জাতিসত্তার পরিচয় করিয়ে দিয়ে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে এই দেশের জনগনের আস্থা অর্জন করেছেন; যার কারণে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেই বারবার বিএনপি সরকার গঠন করে।’
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেন। তার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তার নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও সাহসিকতা স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমরা আগামী দিনের পথ চলতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তার অবদান জাতিকে আজও অনুপ্রাণিত করে।’
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং পরে অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
পিরোজপুর
পিরোজপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শোক র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর।
বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ও আদর্শকে ধারণ করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সময়োপযোগী বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করছেন।’
শহীদ জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পরও তিনি নিজের আত্মীয়-স্বজনকে চিনতেন না। তিনি দেশকে এবং জনগণকে চিনতেন। তিনি কখনও ব্যক্তিস্বার্থকে প্রশ্রয় দিতেন না।‘ এ সূত্রে তিনি সকলকে শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সুষ্ঠুভাবে দল পরিচালনায় ভূমিকা রাখতেও আহ্বানও জানান।
এ অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম কাচ্চুর সভাপতিত্বে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালী
পটুয়াখালীতেও জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। এ সময় বক্তারা তাদের বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় অবদান স্মরণ করেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নেন। আলোচনা সভার পাশাপাশি অধিকাংশ জেলায় মিলাদ, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি পালন করা হয়।
চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে জিয়াউর রহমানকে ঘিরে আলোচনা থেমে নেই। তার শাহাদাৎবার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে সেই স্মৃতিচারণ, মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কথাই বারবার উঠে এসেছে।