ঢাকা: কারচুপির মাধ্যমে জামায়াতকে ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারস্থ আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল থানা আয়োজিত এক ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাতিরঝিল পূর্ব থানা আমির অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান আজমীর সভাপতিত্বে ও পশ্চিম থানা ভারপ্রাপ্ত আমির নূরুল ইসলাম আকন্দের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও হাতিরঝিল জোন পরিচালক হেমায়েত হোসাইন ও সহকারি জোন পরিচালক মু. আতাউর রহমান সরকার। উপস্থিত ছিলেন হাতিরঝিল পূর্ব সেক্রেটারি খন্দকার রুহুল আমিন, হাতিরঝিল পশ্চিম সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংঘঠিত জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ ও জাতির ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের লজ্জাজনক পতন হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে জামায়াতকে ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তা দিবালোকের মত স্পষ্ট। সরকারের মন্ত্রীরাই অবলীলায় বলে যাচ্ছেন ড. ইউনূস তারেক রহমানের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছেন। এ বিষয়ে একজন সাবেক উপদেষ্টার আত্মস্বীকৃতিও রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তারা বিরোধী দলকে মূল ধারায় আসতে দেননি। মূলত, তিনি এবং সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী এখন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজস্বাক্ষী। তাদের বক্তব্যেই প্রমাণিত হয়েছে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার কথা চিন্তা করে এ নির্বাচন মেনে নিয়েছি।
তিনি সরকারকে ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থের অশুভ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘গণভোট ও সংস্কারের পর জাতীয় নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারত না বলেই তারা একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। আমরাও তা উপলব্ধি করতে পেয়েছিলাম। তবে আমরা আশা করেছিলাম অনেক ত্যাগ ও কোরবানির বিনিময়ে শেখ হাসিনার পতনের পর জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে না। আমরা নৈরাজ্য ও অরাজকতা চাইনি বলেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু মহল বিশেষ শুধু আমাদের সঙ্গে নয় বরং জনগণের সঙ্গেই প্রতারণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ব্যাপকভাবে বিজয়ী হলেও তারা গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যা তাদের জন্যই হবে আত্মঘাতি।
তিনি সরকারকে টালবাহানা বন্ধ করে অবিলম্বে জুলাই সনদ অবিকৃতভাবে বাস্তবায়ন করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় একদিন তাদেরকে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।