ঢাকা: জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা তার বক্তব্যে বাধা দেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে এ ঘটনার নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলাকালে ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশের ওপর ২মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান।
এ সময় রুমিন ফারহানা দাঁড়িয়ে বলেন, তেলের দাম শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হলো। অবশ্য অব্যবস্থাপণার কারণে মানুষ তেল পাচ্ছে না। কিন্তু সংসদে মন্ত্রীদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে তেলের কোনো সংকট নেই।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, আমরা দেখলাম মার্কেট ৭টায় বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ কেনাকাটা যা হয়, তা সন্ধ্যার পরেই হয়। অপরদিকে অফিস-আদালতের সময় নাকি ৪দিন করা হবে। আমার প্রশ্ন দেশে যদি তেলের সংকট নাই থাকে তাহলে এসব সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে। মানুষ লাইন দিয়েও কেন তেল পাচ্ছে না। সব পাম্পে কেন তেলের সাপ্লাই নেই।
তার এই বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যরা সংসদে চিল্লাচিল্লি করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা দাঁড়ালে স্পিকার তাকে মাইক দেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সকল সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, কোনো সদস্য যখন দাঁড়িয়ে কথা বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ অথবা তাকে এলাউ করার একক এখতিয়ার হচ্ছে মাননীয় স্পিকারের। সেই জায়গায় আজকে লক্ষ্য করলাম একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য যখন কথা বলছিলেন, দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গী করেছেন, যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। এটা আশা করি না। এমনকি আমি লক্ষ্য করলাম একবার নয়, চার বার পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে যারা এসেছেন, তাদের কেউ কেউ এই কাজটা করেছেন। আমি এখানে তাদের নাম বলে নিজে লজ্জা নিতে চাই না। আমরা প্রথম দিনই অনুরোধ করেছিলাম, ভাল কিছু সংস্কৃতির চর্চ্চা হোক এখানে। আমরা শিখতে চাই। আমরা নিজে শিখব, জাতিকেও উদ্ধুদ্ধ করব।
মাইক ছাড়াই স্পিকারের সঙ্গে সওয়াল জওয়াব করা সরকারি দলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দিকে ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি আজকে দুইবার লক্ষ্য করলাম, মাননীয় স্পিকার ট্রেজারি বেঞ্চ যেখানে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করার কথা, সেখানে আপনি বার বার অনুরোধ করার পরও তেনারা চালিয়েই যাচ্ছেন। আপনি মাইক দেননি, তারপরও …সংসদে কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। শেষমেষ যখন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য চলছিল, বিষয়টা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এটার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি এবং নিন্দা জানাতেও বাধ্য হলাম।