ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এবার এককভাবে ২০৯ টি আসনে জয়লাভ করায় জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে তারা ৩৫টি আসনে তাদের দলের নেত্রীদের মনোনয়ন দিতে পারবে।
ইতোমধ্যে দলের ভিতরে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মহিলা দলের নেত্রীরা এ পদে মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদী। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির অনেক নেত্রী এবার সরাসরি নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তারাও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে নেতাদের বাসায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, কারা আসবেন নারী আসনের সংসদ সদস্য হয়ে সেবিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ।
এদিকে বিএনপির সহযোগি সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিণী বীথিকা বিনতে হোসাইন সারাবাংলাকে জানিয়েছেন সংক্ষিত নারী আসনে তিনি মনোনয়ন চাইবেন। দলের হাই কমান্ড চাইলে তিনি জনগণের জন্য কাজ করতে চান। তিনি বলেন, অতীতে জনগণের সঙ্গে ছিলাম। নারী আসনে মনোনয়ন পাই কিংবা না পাই জনকল্যানে কাজ অব্যাহত রাখব।
আওয়ামীলীগ আমলে হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার শফিউল বারী বাবু ফ্যাসিবাদী এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর রাজপথের সাহসী সৈনিক ছিলেন। ‘আমার নেত্রী আমার মা বন্দী হতে পারে না’ স্লোগানটি দিয়ে সারাবিশ্বে আলোচিত হয়েছেন তিনি। ওই স্লোগানের প্রবক্তা তিনি। বাবু মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন বিগত দিনে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জানা গেছে, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিথিকা লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলাতে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। শফিউল বারী বাবু লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার সন্তান। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানকে দেশে আনার জন্য রাজপথে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছিলেন বাবু। জীবনের বেশিরভাগ সময় থাকতে হয়েছে আত্মগোপনে অথবা কারাগারে। সহ্য করতে হয়েছে পুলিশি নির্যাতন এবং রিমান্ড। বাবু ছিলেন দলের নিবেদিত প্রাণ।
বাবুর সহধর্মিণী বীথিকা বিনতে হোসাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল থেকে বেড়ে ওঠা একজন সাহসী নেত্রী। যিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন মানবিক সংগঠন ‘অর্পণ আলোক’। বিএনপি’র নারী নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করা শফিউল বারী বাবুর রেখে যাওয়া কর্মী সমর্থকদের জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার এবং দেশজুড়ে বিএনপির নির্যাতিত কর্মীদের পাশে অর্পণ আলোক সংঘ নামক সংগঠনের মাধ্যমে সবার পাশে অর্থনৈতিক ও মানসিক সাপোর্ট দিয়েও আগলে রেখেছেন আপদে-বিপদে।
বীথিকা বিনতে হোসাইন সারাবাংলাকে বলেন, ‘ছোট বেলা থেকেই মানুষের পাশে থাকার ইচ্ছে ছিল। প্রান্তিক মানুষের মুখের হাসি আমাকে আনন্দ দেয়। সেই ইচ্ছে থেকেই অর্পণ আলোক সংগঠন এর মাধ্যমে শত শত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সেই কাজগুলোকে আরও বৃহৎ আকারে করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘শফিউল বারী বাবু সব সময় তার নিজ এলাকার মানুষসহ সারাদেশের মানুষের জন্য কাজ করার চিন্তা করতো। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনসহ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সব আন্দোলন সংগ্রামে প্রথম কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৫ সালে তার মৃত্যুর পর আমিও তার পথ অনুসরণ করে রাজপথে আছি। যখন যেভাবে পারি মানুষের পাশে দাড়াই। এখন দলের হাই কমান্ড যদি আমাদের জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয় তাহলে আরও বড় পরিসরে মানুষের কল্যাণ কাজ করতে পারব।’