ঢাকা: নদীভাঙন, ভূমিক্ষয় ও মাটির ক্ষয় রোধে বিন্না ঘাস কার্যকর, পরিবেশবান্ধব ও স্বল্পব্যয়ী প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনে ‘বিন্না ঘাস পলিসি ফর বাংলাদেশ’ বিষয়ক এক সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি উপস্থিত ছিলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘নদীর তীর, বাঁধের ঢাল, হাওরাঞ্চল ও অন্যান্য ক্ষয়প্রবণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বিন্না ঘাস রোপণ করা হলে মাটির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব। এর শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে শক্তভাবে মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে। ফলে বৃষ্টির পানি, ঢেউ ও স্রোতের কারণে মাটির ক্ষয় কমাতে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’
তিনি বলেন, ‘নদী ও খালের তীর, বাঁধ, পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকা এবং হাওরাঞ্চলে বিন্না ঘাসের ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে।’ বাংলাদেশে নদীর পাড় ও বাঁধের মাটি রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নদী, খাল, বাঁধ ও জলাধার সংরক্ষণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু কংক্রিটের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে প্রকৃতিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব সমাধানকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিন্না ঘাস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
সভায় বিন্না ঘাসের উপকারিতা ও সম্ভাবনা নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম।
এ সময় মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দফতর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।