Friday 17 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জুলাই শহিদ দিবস পালিত

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১৭ জুলাই ২০২৬ ১২:৪২ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ১৫:১৬

ইসলামাবাদে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় অতিথিরা

পাকিস্তানের ইসলামাবাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহিদ দিবস, ২০২৬’ পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন বা অর্জন নয়; এটি ছিল স্বৈরাচারমুক্ত মানবিক সমাজ ও গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল। এই চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সকালে হাইকমিশনের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় ইসলামাবাদে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, হাইকমিশনের কর্মকর্তা এবং পাকিস্তানের পাথফাইন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকরাম সেহগাল, ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো রাষ্ট্রদূত আসিফ আলী খান দুররানি, ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ মাহমুদ, ইসলামাবাদের ম্যারিয়ট হোটেলের পরিচালক আমনা সালমান কাদির এবং জং গ্রুপের বিশেষ প্রতিবেদনের সম্পাদক এম সালেহ জাফির আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের অসামান্য অবদানের স্মৃতিচারণ করেন। তারা উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেমন অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কও আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে।

বক্তারা বলেন, জুলাই শহিদদের আত্মদান আমাদের মনে করিয়ে দেয়— রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক মূলত জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাইয়ের চেতনা আমাদের একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়। শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান-স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার জুলাই আন্দোলনে আহত বীর শহিদদের এবং ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, যাদের অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবন যাপন করছেন। একই সঙ্গে তিনি শহিদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান, যারা আপনজন হারানোর গভীর শোক বুকে ধারণ করেও অসীম ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিয়ে চলেছেন। জুলাই যোদ্ধা ও গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদানও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

হাইকমিশনার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম-সহ কমপক্ষে ৬ জন শহিদ হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটক, জেল-জুলুম এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও আপামর জনতার রাজপথে নেমে সক্রিয় ও সুতীব্র আন্দোলনের বিষয়গুলোও তিনি তুলে ধরেন।

সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহিদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর