ঢাকা: জাতীয় সংসদ ভবনের পবিত্র মসজিদ ও বিভিন্ন কক্ষের ছাদ চুইয়ে বৃষ্টিতে পানি পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি সংসদের নজরে আনেন তিনি। তার এ তথ্যের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন, সংসদ ভবন এলাকায় তার নিজের বাসার ছাদ দিয়েও পানি পড়ে। রাতে ঘুমাতে গেলে পানি ধরতে বাটি রাখতে হয়।
হুইপ জি কে গউছ বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে এই মহান সংসদে নানা ঘটনা ঘটেছে। অথচ যে ফোরামে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন করছেন, ঠিক তার ওপরের তলাতেই মসজিদ রয়েছে যেখানে অসংখ্য মুসলিম সংসদ সদস্য একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মসজিদের সামনে সারিবদ্ধভাবে বালতি দিয়ে রাখা হয়েছে, কারণ ছাদ ফেটে অনবরত বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করছে। যেখানে এই অধিবেশনে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে, সেখানে মসজিদের এই করুণ দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এরপরই সংসদ কার্য পরিচালনাকারী চিফ হুইপ জানান, সংসদ ভবনে পানি পড়ার বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এবং বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই গতকাল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ভবনের যতগুলো জায়গা থেকে পানি পড়ার সমস্যা রয়েছে, তা মেরামতের কাজ গতকাল থেকেই শুরু করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিফ হুইপের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, চিফ হুইপ যে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কথা বললেন, সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তো পেছনেই বসে আছেন। তিনি যদি এই বিষয়ে কিছু বলতেন, তবে সবাই আশ্বস্ত হতে পারতেন এবং বৃষ্টির দিনে অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন। ডেপুটি স্পিকারের এই আহ্বানের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, চিফ হুইপ এরইমধ্যেই এই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। ভবনের ছাদ সংস্কারে সর্বাত্মক বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুতই এর স্থায়ী প্রতিকার হয়ে যাবে।