Sunday 28 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চীনের সঙ্গে সমঝোতায় দেশের নিউ মিডিয়ায় পরিবর্তনের আশা তথ্যমন্ত্রীর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুন ২০২৬ ১৫:৩৬ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৬:২৪

চীন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ঢাকা: চীনের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার খাতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো বাংলাদেশের গণমাধ্যম, বিশেষ করে নিউ মিডিয়ার বিকাশে গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

চীনের সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৪টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এসব সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।’

চীন সফর শেষে দেশে ফিরে রোববার (২৮ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রী হিসেবে আমি চীন সরকারের সঙ্গে ৪টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথভাবে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ে একমত হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা চীনের সঙ্গে গণমাধ্যম প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে যৌথ গবেষণার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়াকে আমরা একটি নতুন গুণগত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব বলে আমরা আস্থাবান।’

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে সই হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট চারটি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

চীন সফরের তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী এবং পার্লামেন্টের স্পিকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মান, গুরুত্ব ও আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আমাদের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’

তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে দুটি চুক্তি এবং একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। চীনের আন্তরিকতা ও উষ্ণ অভ্যর্থনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল মুগ্ধ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চীনের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাদের আন্তরিকতারই প্রতিফলন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে উল্লেখ করেছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গুণগতভাবে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

তিনি বলেন, ‘যে সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং যা বিকশিত হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়, সেই সম্পর্ক এখন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এটি আমার বক্তব্য নয়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মন্তব্য।’

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর শেষে ৪ দিনের সফরে চীন যান। সফরের প্রথম অংশে তিনি ডালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সব বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয় গ্রেট হল অব দ্য পিপলে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।