ঢাকা: প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবার সিঙ্গাপুরসহ আরও তিনটি দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, নতুন করে ফ্রান্স, বাহরাইন ও সিঙ্গাপুরে এনআইডি কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই দেশগুলোতে ইসির প্রতিনিধি দল পাঠানো হতে পারে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে চলছে। এর মধ্যে রয়েছে- সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া।
এ পর্যন্ত এসব দেশ থেকে প্রায় ১ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির আবেদন জমা পড়েছে, এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রবাসী তাদের এনআইডি হাতে পেয়েছেন।
বিদেশে বসে ভোটার হতে হলে প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে অর্থাৎ দূতাবাসের নির্ধারিত ডেস্কে কিছু বাধ্যতামূলক কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে- অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক)), মেয়াদসহ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট কিংবা এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়নপত্র, অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ ৫৬টি উপজেলা ও থানার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে কিছু বাড়তি তথ্য জমা দিতে হতে পারে। যেমন বিশেষ তথ্য ফরম, শিক্ষাগত সনদ, পিতা-মাতার এনআইডি বা ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিআইএন সনদ, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নিকাহনামা, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি, নাগরিকত্ব সনদ এবং স্থায়ী ঠিকানার ইউটিলিটি বিলের কপি। তবে বাধ্যতামূলক নয় এমন কোনো নথিপত্র প্রবাসীরা বিদেশে জমা দিতে না পারলে, দেশে থাকা তাদের স্বজনদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তা জমা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, প্রবাসীরা অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করার পর তাদের দেওয়া তথ্য সঠিক আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেশের স্থায়ী ঠিকানায় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। স্থানীয়ভাবে তদন্ত ও তথ্য যাচাই শেষে আবেদনটি অনুমোদিত হলে তাকে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তার এনআইডি কার্ডটি তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।