ঢাকা: জাতীয় ঈদগাহ প্রস্তুত করা হয়েছে, প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সোমবার (২৫ মে) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান জামাতের প্রস্তুতি এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওযুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পুরো প্যান্ডেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ফ্যান, ওযুখানা, বিশুদ্ধ পানি, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।
আবদুস সালাম বলেন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ডিএসসিসি একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ঈদের দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কলাবাগান এসটিএস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পরিবহন শুরু হবে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যে, প্রথম দিনের বর্জ্য পরবর্তী ৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ রাত সাড়ে ৯টার মধ্যেই অপসারণ করা হবে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, এ বছর তিন দিনে ঢাকা দক্ষিণে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন জনবল এবং ২,১১৭টি বিভিন্ন ধরণের যান-যন্ত্রপাতি (ট্রাক, কম্প্যাক্টর, পে-লোডার ইত্যাদি) নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির হাটের কার্যক্রম এবং বর্জ্য অপসারণ তদারকি করতে ডিএসসিসি’র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। প্রতিটি হাটে আলাদা তদারকি টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে। পরিচ্ছন্ন শহর নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে নগরবাসীকে ডিএসসিসি নির্ধারিত স্থানেই কোরবানি ও পশুর বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া, কোরবানি পরবর্তী স্থানটি পানি দিয়ে ধুয়ে জীবাণুনাশক (ব্লিচিং পাউডার/স্যাভলন) ছিটিয়ে দেওয়ার এবং ড্রেন বা নর্দমায় কোনোভাবেই বর্জ্য না ফেলবেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে তিনি নগরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।