Saturday 16 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১২ মে ২০২৬ ১৪:২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: শুধু পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে জোরালোভাবে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ অর্জনে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান এখনও প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবনকেই র‍্যাংকিংয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়; তাই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে এই খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও মনোযোগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে বেগবান করতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত বিত্তবান অ্যালামনাইদের পৃষ্ঠপোষকতা করার আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হয়, তবে অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।

উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই বেকারত্বের অন্যতম কারণ। এ কারণে সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেছে, যেখানে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষ করে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী মুখস্থ বিদ্যা ও সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এআই, রোবটিক্স এবং ন্যানো টেকনোলজির মতো উন্নত প্রযুক্তি এখন কর্মসংস্থান নিয়ন্ত্রণ করছে। নতুন কর্মসংস্থানের বাজারে প্রবেশ করতে হলে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে হবে।

এছাড়া ক্যাম্পাস থেকে উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ‘সিড ফান্ডিং’ প্রদান এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সায়েন্স পার্ক’ ও ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে গ্রহণ করার পাশাপাশি দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য তিনি শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ সকল সচেতন মহলের প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এফএন/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর