Wednesday 06 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জাপানের দৈনিক মাইনিচি শিম্বুনকে সাক্ষাৎকার দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৬ মে ২০২৬ ০০:৩৪ | আপডেট: ৬ মে ২০২৬ ১১:২৭

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমানে জাপান সফরে রয়েছেন।

সোমবার (৪ এপ্রিল) জাপানের টোকিওতে দৈনিক পত্রিকা মাইনিচি শিম্বুনকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি ও দুর্বল শাসন অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ‘এখনও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একটি বড় সাংবিধানিক সংস্কার ছাড়া তা অর্জন করা সম্ভব নয়,’ তিনি সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্য নির্ধারণের ইচ্ছার ওপর জোর দিয়ে বলেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের অধীনে স্বৈরাচারী শাসন অব্যাহত ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত/শহিদ হন। ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের মুখে হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং তার শাসনের পতন ঘটে। জামায়াতে ইসলামীকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার বহু বছর ধরে নির্যাতন, নিপীড়নের মাধ্যমে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী স্বাভাবিকভাবে তার কাজকর্ম শুরু করতে পেরেছে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে দলটি উল্লেখযোগ্য আসন নিয়ে বিরোধীদলে থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকা রাখছে।

সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করার একটি সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পক্ষে যায়। তবে, প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া অনুসরণে অনীহার জন্য ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দুর্নীতি, স্বৈরাচার এবং একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের অভাবসহ জনগণ নানা সমস্যায় ভুগছে। আমরা সংস্কারকে সমর্থন করি, কিন্তু বর্তমান সরকার তা প্রত্যাখ্যান করছে,” এবং সংসদ ও রাজপথে প্রতিবাদ বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

২০১৬ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় বেশ কয়েকজন জাপানি নাগরিক নিহত হন। হাসিনা প্রশাসনের অধীনে চরমপন্থার সঙ্গে কথিত যোগসূত্রের জন্য জেআই (জামায়াতে ইসলামী) সমালোচিত হলেও, ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, “আমরা সব ধরনের চরমপন্থার বিরোধিতা করি, কারণ এগুলো সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি করে।” জামায়াতে ইসলামী সব ধরনের উগ্রবাদের বিরোধী এবং দলটি সংসদের ভেতরে ও বাইরে গণতান্ত্রিক পন্থায় সংস্কারের দাবিতে সক্রিয় থাকবে।

তিনি ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের ভোগান্তির কথাও উল্লেখ করেন এবং জাতিসংঘের মতো ফোরামের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।

এছাড়াও, তিনি জাপান সরকারকে বলেন যে, “বাংলাদেশে, যেখানে শ্রম সস্তা, সেখানে স্বল্প খরচে বিনিয়োগ উচ্চ উৎপাদনশীলতা তৈরি করতে পারে,” এবং জাপানকে নবায়নযোগ্য শক্তির মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর