ঢাকা: বাংলাদেশে বর্তমানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘ভয়েস’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গত ছয় মাসের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বক্তরা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, অনলাইন মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধের মতো ঘটনাগুলো দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ভয়েস’র উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা তার উপস্থাপনায় জানান, গত ছয় মাসে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অন্তত ৬৭টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের কাজে সম্পৃক্ত বন্ধন দাস বলেন, বর্তমান সময়ে ‘মব-সহিংসতা’ একটি নতুন ও ভয়ংকর প্রবণতা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা মনে করেন, মতপ্রকাশের পথে এসব বাধা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে, যা প্রতিরোধে নাগরিক সমাজকে আরও সোচ্চার হতে হবে।
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন প্রণয়নের সময় নাগরিক সমাজের মতামত নেওয়া হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে সেসব সুপারিশ প্রায়ই বাদ পড়ে যায়, যা পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে নষ্ট করে।
গণমাধ্যম গবেষক ও শিক্ষক আফরোজা সোমা প্রশ্ন তোলেন, মতপ্রকাশের সীমানা আসলে কে নির্ধারণ করে দিচ্ছে এবং কেউ যদি এই অধিকার খর্ব করে তবে তার জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত হবে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অপতথ্যের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি শারাবান তহুরা। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে যেভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে সাংবাদিক উদিসা ইসলাম, আমিনুর রসুল ও এস. এম. সৈকতসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। তারা অবিলম্বে বাংলাদেশে মতপ্রকাশ ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।