ঢাকা: সংসদে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের জের ধরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বিরোধীদলেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন। আমি নিজে রণাঙ্গণে দেখেছি সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াতের এমপি) একজন মুক্তিযোদ্ধা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাষ্ট্রপতিকে একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, রাষ্ট্রপতিকে এই কারণে ভাগ্যবান বলছি যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এমন একজন রাষ্ট্রপতি যিনি তিন ধরণের তিনটি সরকারের শপথ পড়িয়েছেন। প্রথমত বিনাভোটে নির্বাচিত, দ্বিতীয়ত সংবিধানে নাই কিন্তু আন্দোলনের মাধ্যমে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার এসেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সেই সরকারের শপথ উনি পড়িয়েছেন। সবশেষে জনগণের ভোটে নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারকে উনি শপথ পড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, আজকের এই সংসদ একটি অনন্য বৈশিষ্ঠের সংসদ। যে সংসদে ২১৯জন নতুন সংসদ সদস্য। এরমধ্যে সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। আমি নিজেও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে এই সংসদে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, আমি বলতে চাই প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টিতা। আপনাকে (স্পিকার) নিয়োগ, আপনি ওই চেয়ারে বসে আছেন মানে ১৯৭১ বসে আছে। আপনি বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম। আপনাকে দেখলে অনেকের ভাল লাগবে, অনেকের হয়তো ভাল লাগবে না। কিন্তু আপনি এই মহান সংসদে ১৯৭১সালকে রিপ্রেজেন্ট করছেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই করেননি, উনি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনে ভূমিকা রেখেছেন। আজকে সরকারি দলের বেঞ্চে বহু মুক্তিযোদ্ধা বসে আছেন। জয়নুল আবদিন ফারুক, মুনিরুল হক চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের মতো প্রথিতযশা স্বনামধন্য মুক্তিযোদ্ধা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ স্বনামধন্যমুক্তিযোদ্ধা সরকারি দলের বেঞ্চে উপস্থিত। যেটি বিরোধীদলের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।
তার এই বক্তব্যের সময় বিরোধীদলের সদস্যরা উচ্চশব্দে চিল্লাচিল্লি করতে থাকেন। তখন স্পিকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, মাননীয় সদস্য এক মিনিট। বিরোধীদলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমি নিজে রণাঙ্গণে দেখেছি, সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধ।
এরপর শাহে আলমকে তার বক্তব্য চালিয়ে যেতে বলেন স্পিকার। পরে শাহে আলম তার বক্তব্য চালিয়ে যান।