ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী এবং তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতেই সরকার এই কর্মসূচি চালু করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানী টিএনটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় এই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কোনো হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারীদের জন্য স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে এখন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৪টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারী এই সুবিধার আওতায় এসেছেন।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড কার্যক্রমও শুরু হয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যেই অনেক কৃষকের হাতে সেই কার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কৃষকদের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল, তা সুদসহ মওকুফ করার ঘোষণা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন তার জন্য একটি আবেগের বিষয়, কারণ বহু বছর ধরে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু ক্ষেত্রে সময় লাগলেও সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হবে না। সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।