Sunday 07 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রামিসা হত্যা মামলার রায়কে স্বাগত জানাল জনতা, দ্রুত কার্যকরের দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেট
৭ জুন ২০২৬ ১৭:৪০

আদালত প্রাঙ্গণে সাধারণ জনতা, আইনজীবী ও স্বজনরা।

ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ, আইনজীবী ও স্বজনরা। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে স্বস্তি, আবেগ ও সন্তোষের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ রায়  দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তারা।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সকাল ১১টায় বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণ পাঠ শুরু করেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায়ের বিভিন্ন অংশ পাঠ শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আদালতকক্ষে উপস্থিত অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রায়ের সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল রানাকে নির্বিকার দেখা যায়। মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় তিনি দেয়ালে হেলান দিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার রায় ঘোষণার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত জনতা বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এমন নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা দ্রুত রায় কার্যকরেরও দাবি জানান।

এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালতে আনা হয়। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া মাত্র ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ঈদুল আজহার ছুটির পর ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক আলামত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন। মামলার ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘আমার একটি ছেলে আছে স্যার, আমাকে মাফ করে দেন।’ অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন।

ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও রায় সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার একটি বিরল নজির হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর