Tuesday 02 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন রামিসার মা, বাবা ও বোন

স্টাফ করেসপন্ডেট
২ জুন ২০২৬ ১৩:৩৭ | আপডেট: ২ জুন ২০২৬ ১৯:১৮

ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভিন বেগম এবং বোন রাইসা আক্তার। একই সঙ্গে রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম ও চাচিও আদালতে সাক্ষ্য দেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষীরা আদালতের সামনে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
সাক্ষ্যদানকালে রামিসার মা পারভিন বেগম বলেন, মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে তিনি অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তারের কাছে বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু স্বপ্না দরজা না খুলে উলটো প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।
এর আগে সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে আদালতে এসে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মেয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারই তার পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা।
মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের বিচারকের সামনে হাজির করা হয়।
এর আগে সোমবার (১ জুন) আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে পুলিশ দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন বিচারক। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে রামিসার মা-বাবা অভিযুক্তদের বাসার সামনে তার একটি স্যান্ডেল দেখতে পান।
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে ভবনের অন্য বাসিন্দাদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পান। পরে বাথরুমের একটি বড় বালতির ভেতর থেকে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ২০ মে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা অপরাধের দায় স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের কথাও উল্লেখ করেন।

 

বিজ্ঞাপন