Tuesday 02 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আদালতের বাইরে আসামির বক্তব্য প্রচারে ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা

স্টাফ করেসপন্ডেট
২ জুন ২০২৬ ১২:৪৮ | আপডেট: ২ জুন ২০২৬ ১৯:১৯

ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ চলাকালে আদালতের বাইরে পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদের বক্তব্য দেওয়া এবং সেই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর এ নির্দেশনা দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতের কাছে আবেদন করে বলেন, আইন অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতে থাকা কোনো আসামির বিচারকের সামনে ছাড়া বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তা আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বিচারকার্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখা, জনমতকে প্রভাবমুক্ত রাখা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য ভবিষ্যতে যাতে কোনো আসামি পুলিশি হেফাজতে থেকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

শুনানি শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এদিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে মামলার বাদী ও নিহত শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার সাক্ষ্যের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে নিহতের মা পারভীন আক্তারও সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন।

পরবর্তীতে ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তাদের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।

সোমবার (১ জুন) আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিনে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেয়। এর আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৭ জন সাক্ষী রয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত ১৯ মে নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ প্রতিবেশীর বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

 

 

সারাবাংলা/টিএম/ এএ