Monday 13 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ব্যাংককে বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ জুলাই ২০২৬ ২০:০৯ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ২০:৫৪

দরজা থেকে বিশাল অগ্নিশিখা বের হলে বার থেকে লোকজন পালাতে থাকে। ছবি: বিবিসি

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭১ জন । আহতদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রোববার (১২ জুলাই) গভীর রাতে রাজধানীর চাতুচাক জেলার ‘ঘেরা রং বিয়ার না লাট ফ্রাও’ বারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলকর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ২৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় মোট ৭১ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বারটির মালিকও গুরুতর আহত অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বারের মঞ্চসংলগ্ন এলাকা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ঘন ধোঁয়ায় পুরো কক্ষ ঢেকে যায় এবং উপস্থিত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত গ্রাহকেরা প্রধান দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। এ সময় কয়েকজনের পোশাকেও আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর উদ্ধারকারীরা বারের একটি টয়লেট থেকে অধিকাংশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।

দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান কিত্রাত পানফেট বলেন, ‘নিহতদের বেশিরভাগের মরদেহ টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন লাগার পর তারা আতঙ্কিত হয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন সেখানে কোনো আলো ছিল না।’

ব্যাংককের দুর্যোগ প্রশমন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে (এয়ার কন্ডিশনার) বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এখনো অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পর সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল। তিনি আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার কারণ দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন।

থাইল্যান্ডে অতীতেও একাধিক অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা বিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে সমালোচনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর