যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে বিমান চলাচলে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও সিরিয়াসহ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা তেল আবিব ও বৈরুতগামী এবং সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এয়ারলাইনটি জানায়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ফ্লাইট সূচি জানানো হবে।
যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত তেল আবিব ও বাহরাইনগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে জর্ডানের রাজধানী আম্মানগামী নির্ধারিত ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা তার্কিশ এয়ারলাইনস কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইরান ও জর্ডানসহ অন্তত ১০টি গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে।
কাতারের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কাতার এয়ারওয়েজ তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একইভাবে ভারতের বৃহত্তম বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকেও মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটে প্রভাব পড়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শনিবার বিকেল থেকে ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই ঘোষণা দিয়েছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস। সংস্থাটি জানায়, দুবাইয়ে অবস্থানরত একটি ফ্লাইট নিরাপদে রয়েছে।
এর আগে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে জানিয়েছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদফতর।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।