Friday 17 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস ইইউ ও জি৭৭-এর

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১৭ জুলাই ২০২৬ ১৬:৪৮ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ২২:১৪

ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণ নিশ্চিতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব সেভেনটি সেভেন অ্যান্ড চায়না (জি৭৭)।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ঢাকায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘ সদর দফতরে পৃথক দু’টি বৈঠকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস এবং জি৭৭ ও চীনের চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের মধ্যে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

সফরে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘দেশ এখন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার সুসংহত করতে বাড়তি সময় প্রয়োজন।’

তিনি সুশাসন জোরদার, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, দেশীয় সম্পদ আহরণ বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাড়তি সময় পেলে সংস্কার আরও সুসংহত হবে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর হবে এবং শিল্পখাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে। এতে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় থাকবে।’

রাষ্ট্রদূত লামব্রিনিদিস সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়টিকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে ইইউর সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

তিনি এই রূপান্তর কাজ সহজ করতে সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

রাষ্ট্রদূত লাসেরে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে বাংলাদেশের যুক্তিকে শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান এবং এই বিষয়ে জি৭৭-এর সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

তিনি বাংলাদেশের উত্তরণ কৌশল নিয়ে জি৭৭ভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি পৃথক ব্রিফিংয়ের প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়।

বৈঠক শেষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ইইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেন।

শাহরিয়ার কাদের জানান, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণে ইইউ তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সারাবাংলা/একে/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর