ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭ দফা দাবি জানিয়েছে ব্যাংকটির উদ্বিগ্ন গ্রাহক, আমানতকারী, প্রবাসী ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে গঠিত ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
শনিবার (১৩ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের প্রায় ৩ কোটি গ্রাহকের আস্থা ও জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পরিবর্তনকে ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফোরামের অভিযোগ, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যায়, যা ব্যাংকটিকে গভীর সংকটে ফেলে। তারা দাবি করেন, সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আবারও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং অনেকে আমানত তুলে নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়। ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) ও বিভিন্ন নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্য ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আরডিএসের বিনিয়োগ ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৩২ কোটি টাকা এবং ঋণ আদায়ের হার ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বলে তারা দাবি করেন।
নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে ফোরামের অভিযোগ, ২০১৭ সালের পর বিপুলসংখ্যক নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। পরে যোগ্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পরীক্ষার আয়োজন করা হলে অনেক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি অংশ নেননি। তবে সরকারপক্ষের দাবি অনুযায়ী ৯ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে— এ তথ্যকে তারা ‘অসত্য’ বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ৭টি দাবি উত্থাপন করেছে গ্রাহক ফোরাম, সেগুলো হলো—
১. বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া।
২. ব্যাংকের মালিকানা আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
৩. ব্যাংক খাতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
৪. ইসলামী ব্যাংকগুলো নিয়ে ‘আতঙ্ক সৃষ্টি’ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া।
৫. বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৬. ব্যাংক দখল ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করে এমন আইনি বিধান বাতিল করা।
৭. সংসদে ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে দেওয়া ‘ভুল তথ্য’ ও বক্তব্য প্রত্যাহার করা।
ফোরাম জানিয়েছে, দাবিগুলো শনিবার (আজ) বিকেল ৪টার মধ্যে বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে ১৪ জুন ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পরে ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি কোটি গ্রাহকের আমানত ও আস্থার প্রতীক। ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।