ঢাকা: রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপব্যবহারের কারণে দেশের ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন ‘হক-হালালি বা সৎভাবে ব্যবসা করা যাবে না’—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘শুল্ক সুবিধা নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী অপব্যবহার করছেন। বাণিজ্যিক উদ্দেশে কম শুল্কে পণ্য আমদানি করা হলেও সেগুলোর একটি অংশ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এইচএস কোড যত বেশি ভাগ করা হয় এবং ভিন্ন ভিন্ন শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়, অপব্যবহারের সুযোগ তত বাড়ে। হার যত একরকম রাখা যায়, অপব্যবহার তত কম হয়।’ গত দেড় বছরে এই প্রবণতা আরও স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে বলেও জানান তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হারেস মোহাম্মদ বলেন, একই এইচএস কোডে ভিন্ন ধরনের পণ্যের ওপর একক শুল্ক আরোপ অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক। বিশেষ করে শিল্পে ব্যবহৃত সুইচ ও বাসাবাড়ির সুইচ একভাবে শুল্কায়ন করা হলে তা ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যা তৈরি করে।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন পণ্যের আলাদা কোড ও শুল্কহার নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তা অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করছে। অনেকেই কম শুল্কের সুবিধা নিতে পণ্যের প্রকৃত ব্যবহার গোপন করছেন, যা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
এ সময় হারেস মোহাম্মদ ‘মিস ডিক্লারেশন’ বা ভুল ঘোষণার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘অতীতে এ ধরনের অপরাধে ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা থাকলেও এখন তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায় না। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অসৎরা সুবিধা পাচ্ছেন।’
তিনি দাবি করেন, মিস ডিক্লারেশন বন্ধ করা গেলে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো একাধিক প্রস্তাবও দেয়। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খাত কাঁচামালের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) প্রত্যাহার ও শুল্ক কমানোর দাবি জানায়। সৌর বিদ্যুৎ খাতে শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার এবং কর অবকাশের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি, ব্যাটারি খাতে ভ্যাট কমানো এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি কর অবকাশ দেওয়ার দাবি উঠে। খাদ্যপণ্য খাতে হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেককে ভ্যাট অব্যাহতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বানও জানানো হয়।
সার্বিকভাবে আলোচনায় রাজস্ব কাঠামো সংস্কার, শুল্কহার যৌক্তিকীকরণ এবং অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।