চট্টগ্রাম: টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। আবারও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে নগরীর নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।
নগরীর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, মুরাদপুর ,সুন্নিয়া মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। অনেককে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে দেখা যায়। নগরীর কয়েকটি স্কুলের ক্লাস ও পরীক্ষা ‘বৈরী আবহাওয়ার’ কারণে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ছবি: সারাবাংলা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৬০ মিলিমিটার।
সকালে কাতালগঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গতকাল সকাল থেকে যে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে তা এখনও থামেনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো শহর গতকাল থেকে ঘুরে দেখেছি। ভারি বর্ষণে লালখান বাজারে দু-তিনটি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে এবং বিমানবন্দর সড়কে একটি সড়ক ভেঙে গেছে বলেও জানান মেয়র শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন খাল, নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি এবং কিছু এলাকায় জলপ্রবাহে বাধা থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে নগরীর নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে।