চট্টগ্রাম: ঈদ-উল-আজহার কেন্দ্রীয় জামাত উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চসিকের উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন।
তিনি জানান, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে এবং নিচে কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় রেখে ওপরে টারপলিন দেওয়া হয়েছে, যাতে আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও জামাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এ ছাড়া প্রায় ১৪০টি সিলিং ফ্যান, ৬০টি স্ট্যান্ড ফ্যান, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৭০টি মাইক এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেয়র বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লি এই কেন্দ্রীয় জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুসল্লির কথা বিবেচনায় রেখে দু’টি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে— প্রথম জামাত সকাল ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। বৃষ্টির কারণে মাঠে নামাজ পড়তে না পারলে মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
মাঠ পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার প্রথম ও প্রধান জামাত নগরীর জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদ প্রাঙ্গণে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় ঘটিকায়।’
এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর আরও নয়টি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদগুলো হলো— লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রা.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) চসিক জামে মসজিদ (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন)।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সম্মানিত মুসল্লিগণকে যথাসময়ে নির্ধারিত ঈদ জামাতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান মেয়র। পরিদর্শনকালে মেয়র নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। সেই সঙ্গে কোরবানির আত্মত্যাগের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে ক্লিন সিটি গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চসিকের জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ, নির্বাহী প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ।