Saturday 22 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন চট্টগ্রাম বন্দরের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ মার্চ ২০২৬ ১৫:০১ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪০

চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম: দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর ফের অর্জন করেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’। এই সাফল্যের ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষা শূন্যে নেমে এসেছে, যা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বন্দরের কর্মকর্তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জনের পর থেকে অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ধারাবাহিকভাবে জিরো ওয়েটিং টাইম বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে জানুয়ারি মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ভাগে কর্মবিরতিসহ নানান কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের এই কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটলেও পুনরায় পুরোদমে কার্যক্রম চলমান থাকার ফলে জিরো ওয়েটিং টাইমে ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এ অর্জনের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজগুলোকে বার্থিং পেতে বহির্নোঙরে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়নি। এতে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমেছে ও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। ব্যবসায়িক ব্যয় কমেছে, সরবরাহ চেইন আরও নির্ভরযোগ্য হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

তিনি বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কার্যকর সহযোগিতা থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বমানের সেবায় পৌঁছাতে সক্ষম। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ কেবল একটি অর্জন নয়, বরং চট্টগ্রাম বন্দরের একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর ঈদের ছুটির বন্ধেও ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন অপারেশনাল কার্যক্রম চালু রেখেছিল। ঈদের আগে জাহাজের ওয়েটিং টাইম ৩ থেকে ৫ দিনে উন্নীত হলেও কর্তৃপক্ষের সার্বিক মনিটরিং ও সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় পুনরায় শূন্য দিন অর্জন সম্ভব হয়েছে। এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য লোড আনলোড করে চলে যেতে পারে। শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমে। আমদানিকারক দ্রুত পণ্য পায় এবং রফতানিকারক সময়মত পণ্য পৌঁছাতে পারে। লজিস্টিকস খরচ কমে যাওয়ার ফলে পণ্যের বাজার মূল্য কমে যায়, ভোক্তারা কম মূল্যে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে।’

সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, রমজান মাসের শুরু থেকেই দেশের সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আর ঈদের ছুটির মধ্যেও ওয়েটিং টাইম শূন্য রাখতে অপারেশনাল শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঈদের ছুটিতে রোস্টার ডিউটি নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট সদস্যসহ সব বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও সুষ্ঠ বাস্তবায়নের ফলেই এই ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে চট্টগ্রাম বন্দরে জিরো ওয়েটিং টাইম বজায় রাখা ও আমদানি রফতানি কার্যক্রমে আশানুরূপ গতি বজায় থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারাবাংলা/এসএন/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর