রাজধানী ঢাকার পৃথক স্থান থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তারেক দীপু বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মুগদা পাগল চাঁন হোটেল সংলগ্ন শফিক শেখের বাসার নিচতলার কক্ষ থেকে সবুজ বাবু (২০) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় তিনি ফ্যানের সাথে গলায় চাদর পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মৃত সবুজের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার দক্ষিণগুনের বাড়ি গ্রামে। বাবার নাম মো. বদু শেখ। মুগদার ওই বাসায় মা, বাবা, স্ত্রী ও এক সন্তান-সহ থাকতেন। সবুজ ইট ভাঙার শ্রমিক ছিলেন। তবে তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন। গতকাল নেশার টাকা না পেয়ে ভোরে তিনি গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।’
এদিকে কামরাঙ্গিরচড় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ বলেন, ‘হাসান নগরের ওই বাসায় স্ত্রী ও ৫ বছরের সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকতো নয়ন (৩০)। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। তবে কাজ ঠিকমতো করতেন না। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকতো। এসব কারণে গত মার্চ মাসে তার স্ত্রী পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে চলে যান। এসব হতাশা থেকে নয়ন গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মৃত নয়নের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার জাজিরা থানার বয়াতিকান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত মোসলেম উদ্দিন।
বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত দত্ত বলেন, ‘পরিবার থেকে খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড্ডার স্বাধীনতা স্মরনীর ওই বাসা থেকে রবিউস সানি (৩২) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় মরদেহটি বিছানায় শায়িত অবস্থায় ছিল। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৃত রবিউস সানি বিবাহিত ছিলেন। একটি আইটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। রবিউস সানি পারিবারিক ও অফিসিয়ালি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বীর্ঘদিন যাবৎ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সকালে স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান যে, সানি জানালার গ্রিলের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে রয়েছেন। এরপর তারা নিজেরাই ঝুলন্ত থেকে নামিয়ে ফেলেন।’