ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ভাগিয়ে নেওয়ার সময় মুমূর্ষু এক শিশু মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাত মাস বয়সী ওই শিশুটির নাম হাসিব আহমেদ মিনহাজ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী মো. এনায়েত করিমকে (৪০) আটক করে পুলিশে দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। শিশুটির মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
ওই শিশুর বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামে। মিনহাজের বাবার নাম হেলাল মিয়া আর মা মেঘলা খাতুন। বাবা সোনার দোকানের কর্মচারী আর মা গার্মেন্টস কর্মী। তারা থাকেন গাজীপুরের বাসন এলাকায়।
শিশুটির বাবা হেলাল মিয়া জানান, তাদের একমাত্র সন্তান মিনহাজ। বাবা-মা দুজনই চাকরি করায় মিনহাজ নানী রেখা বেগমের কাছে রংপুরে থাকত। বেশ কিছুদিন ধরে সে অসুস্থ। সেজন্য চিকিৎসা করাতে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ঢাকায় শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে পুরোপুরি চিকিৎসা না পাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
তিনি আরও জানান, ঢামেকে পর জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার তাকে পাশেই শিশু ডাক্তারের কাছে পাঠান। তবে শিশু ওয়ার্ডে সরাসরি ভর্তি না দিয়ে তার পরিবারকে সেখানকার চিকিৎসকরা বলেন, ওয়ার্ডে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসতে, বেড খালি আছে কি না। তখনই হাসপাতালের কর্মচারী এনায়েতের সঙ্গে দেখা হয় তাদের। এনায়েত নিজে তাদের সঙ্গে নিয়ে শিশু ওয়ার্ড ঘুরে এসে চিকিৎসককে জানান, বেড খালি নেই। এরপর এনায়েত তাদের কাঁটাবন এলাকার হোম কেয়ার হাসপাতালের কথা জানায়। এবং সেখানে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা বিল হবে বলে জানিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে নিরুপায় পরিবার রাজি হয়।
হেলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘এখানে আসার আগে অন্য হাসপাতালের চিকিৎসকরা আমাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন, দুই মিনিটের জন্যও ওর মুখের অক্সিজেন মাস্ক খোলা যাবে না। ওই কর্মচারীকেও এটি জানানো হয়। তবে ওই কর্মচারী শিশুটির মাস্ক খুলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে দেবে বলে হাসপাতালের ভেতর প্রায় আধাঘণ্টা ঘোরাঘুরি করে। এর পর হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনের গেট দিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়ার সময় আমরা বুঝতে পারি, মিনহাজ আর বেঁচে নেই। তখন আমরা কান্নাকাটি শুরু করলে ওই কর্মচারী দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিই।’
শিশুটির মামা রিপন বলেন, ‘আমার ভাগ্নের ডায়রিয়া হয়েছিল। রংপুর মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানে কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। এরপর ঢাকার শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসি। ছিট না থাকায় আমাদের ভর্তি দেয়নি। সেখানে এক দালাল আমাদের ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে কিডনির সমস্যার কথা শুনে কিডনি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। আমরা গ্রাম থেকে ঢাকায় আসছি। যে যে ভাবে বলছে, সেভাবেই কাজ করছি। আমাদের সাত মাস বয়সী শিশুকে এক প্রকার হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর কঠিন শাস্তি দাবি করি।’
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মনমথ হালদার বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে পুলিশ ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছে। এমন খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে আসি। এনায়েত করিম (৪০) নামে এক সরকারি কর্মচারীকে ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছে। জানতে পেরেছি, একটি পরিবারকে ফুসলিয়ে তাদের মুমূর্ষু শিশুকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।’ শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।