ঢাকা: নাগরিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতে রাজধানীর ভাষানটেক বস্তিতে সোলারভিত্তিক ৪৫০টি এলইডি সড়ক বাতি স্থাপন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভাষানটেক বেনারসি পল্লীর ২নম্বর গেইটসংলগ্ন স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন স্থাপিত সোলারভিত্তিক সড়কবাতি প্রজ্বলন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ডিএনসিসি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভাষানটেক বস্তিতে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন সেই অঙ্গীকার পূরণেরই একটি অংশ।’
তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘এই লাইটগুলো আপনাদের টাকায় স্থাপন করা হয়েছে, এগুলো আপনাদের সম্পদ। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও আপনাদের নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে এবং যারা দেশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন, আপনাদের তাদের পাশে থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী বলেন, ‘আমরা আমাদের ওয়াদা পূরণ করছি। আমরা চাই এই এলাকা থেকে মাদক, চুরি ও ছিনতাই বন্ধ হয়ে যাক। পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে কী করছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কেউ অনলাইন জুয়ার মতো ক্ষতিকর কার্যক্রমে জড়িয়ে না পড়ে।’
বাতি স্থাপন কাজের আওতায় ভাষানটেক বস্তি এলাকায় সোলার বেজড মোট ৪৫০টি এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর নির্ভরশীলতা কমানো হয়েছে।
ভাষানটেক বস্তিতে বসবাসকারী প্রায় দেড় লাখ নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য সরু রাস্তা ও গলিতে সড়কবাতির ব্যবস্থা হওয়ায় রাত্রিকালীন চলাচল সহজ ও নিরাপদ হবে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং বস্তির অভ্যন্তরে চুরি, ছিনতাই ও মাদকসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিরুৎসাহিত হবে।
একইসঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী এলইডি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের অপচয় রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রকল্পটির আওতায় স্থাপিত সোলার স্ট্রিট লাইটের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫৮ হাজার ৩২০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান, ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।