যশোর: যশোরে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হওয়া চৌগাছা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আরাফাত হোসেন রাব্বিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত যশোরের বিচারক আরাফাত হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক ইমদাদুল হক।
এর আগে, উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে (১৮) ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় শনিবার (১ আগস্ট) রাত নয়টার দিকে রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়। রাব্বি এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন।
চৌগাছা থানার পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করার জন্য রাব্বির সহযোগিতা চান ঐ তরুণী। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় বন্ধ ছিল। তারপরও সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে ওই তরুণীকে চৌগাছা শহরে নিয়ে যান রাব্বি। পরে নানা কথা বলে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তরুণী বাড়ি ফিরে পুরো ঘটনা মা–বাবাকে জানান। পরে রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চৌগাছা থানায় গিয়ে তরুণী নিজেই বাদী হয়ে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার পর রাত নয়টার দিকে পুলিশ রাব্বিকে গ্রেফতার করে।
চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বাদী হয়ে মামলা করেন। মেয়েটির স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করা হয়েছে। ছেলেটিকে রোববার আদালতে পাঠানো হলে কারাগারে পাঠায় বিচারক। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে জমা দেবে।’
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমন হাসান বলেন, ‘রাব্বি ছাত্রদলের কলেজ শাখার নেতা। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটা মিথ্যা। ১৫ বছর ধরে তরুণীর পরিবারের সঙ্গে তার পরিবারের বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে মামলাও চলমান। ওই মামলার রায় পক্ষে নেওয়ার জন্য ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে মামলা করা হয়েছে।’
এদিকে, ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা রাব্বিকে সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে যশোর জেলা ছাত্রদল।
জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহ নেওয়াজ ইমরান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যশোর জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আরাফাত হোসেন রাব্বিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান বাপ্পি বলেন, ‘যেহেতু ছাত্রদল নেতা আরাফাত হোসেন রাব্বির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তারই প্রেক্ষিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে ছাত্রদল প্রশ্রয় দেয় না। তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার দল নেবে না।’